কোভিড-১৯ বিশ্ব গবেষণায় সংযুক্ত হলো বিসিএসআইআর

২০ জুলাই, ২০২০ ০১:৩৯  
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রী স্থপতি ইয়াফেস ওসমান বলেছেন, বিসিএসআইআর-এ বিশ্ব মানের জিনোম ল্যাবরেটরি স্থাপন করা হয়েছে। পৃথিবীতে হাতে গোনা কয়েকটি এ ধরনের ল্যাব রয়েছে। আমরা আমাদের গবেষণার ফলাফল বিশ্ব সভায় পৌঁছে দিচ্ছি। আমাদের সবার মিলিত শক্তি বাংলাদেশকে বিশ্ব দরবারে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। আমাদের জিনোম সিকোয়েন্সিং–এর ফলাফলের উপর নির্ভর করে ভ্যাক্সিন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান ইউনিভার্সেল একটি ভ্যাক্সিন উৎপাদনে সক্ষম হবে। ঔষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান আমাদের দেশের করোনা ভাইরাসের মিউটিশনকে বিবেচনায় নিয়ে সঠিক ও কার্যকর ঔষুধ উৎপাদনে করবে। বিসিএসআইআর-এর ডিআরআইসিএম অডিটোরিয়ামে রবিবার অনুষ্ঠিত নভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯) জিনোম সিকোয়েন্সিং বিষয়ক প্রেস ব্রিফিং-এ এসব কথা বলেন মন্ত্রী। মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোঃ আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা দেশের বিভিন্ন স্থান হতে ৩০০টি নমুনা সংগ্রহ করে এ গবেষণাগারে সিকোয়েন্সিং করার টার্গেট নিয়ে ছিলাম। প্রায় ২০০ টির নমুনার সিকোয়েন্সিং করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১৭৩ টির ফলাফল Global Initiative on Sharing all Influenza Data(GISAID) এ ফল প্রকাশ করেছে। আমরা পরবর্তীতে আরো বেশি নমুনা নিয়ে কাজ করব এবং করোনা ভাইরাসসহ এ ভাইরাসের সাথে সংযুক্ত অন্যান্য ভাইরাসের বিষয়ে গবেষণা করব। জিনোম ল্যাবের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সেলিম খান বলেন, আমাদের গবেষণার সাথে সরাসরি সম্পৃক্ত ছিল অস্ট্রেলিয়া এবং লন্ডনের বিখ্যাত দুটি গবেষণাগার। আমাদের সহকর্মীরাই উক্ত ল্যাবে কাজ করছে। তিনি আরও বলেন,বিসিএসআইআর-এর বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা গেছে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাস ইতোমধ্যে তার জিনোমিক লেভেলে ৫৯০ টি ও প্রোটিন লেভেলে ২৭৩ টিরও অধিক পরিবর্তন ঘটিয়েছে। এগুলোর মধ্যে ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে “D614G” করোনা ভাইরাস স্টেইনটি সিকোয়েন্সিং-এ সনাক্ত হয়েছে যা বাংলাদেশের সংক্রমনের প্রধান কারণ। এ বিষয়ে গবেষণালব্দ ফলাফল শীঘ্রই স্বীকৃত পিয়ার রিভিউড জার্নালে প্রকাশিত হওয়ার পথে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। বিসিএসআইআর-এর চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) মুহাম্মদ শওকত আলীর সভাপতিত্বে সংবাদ সম্মেলনে সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানী ও কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।